রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং, সকাল ৯:২৯
শিরোনাম :
বরিশালে ফিরোজ ও এনায়েতের নেতৃত্বে ২৪ নং ওয়ার্ড বিএনপির বর্ণাঢ্য র‍্যালি বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিএম কলেজে আলোচনা সভা, র‍্যালি ও বৃক্ষরোপণ বিএম কলেজে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ জাতীয় ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরে বরিশাল মেট্রোপলিটন কলেজে আলোচনা সভা সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হয়রানির ঘটনায় সাংবাদিক সুরক্ষা পরিষদের গভীর উদ্বেগ প্রকাশ বরিশাল জেলা জামায়াতের নবনির্বাচিত আমীর ড.মাহফুজুর রহমানের শপথ গ্রহণ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আরও কমলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম উদীয়মান শক্তিতে পরিণত হচ্ছে ইরান দেড় মাসের শিশু উদ্ধার,এসআই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে গ্রেপ্তার তিন নারী কারাগারে বরিশালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জুলাই যোদ্ধার মৃত্যুতে কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা দাবি এনসিপি মেয়রপ্রার্থীর!

হলি আর্টিজানে হামলা, ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড

রিপোর্ট  সকাল সংবাদ ডেক্স: গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে নারকীয় হামলা মামলায় সাত জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দিয়েছেন আদালত।

বুধবার ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

জঙ্গি হামলার ঘটনার তিন বছর চার মাস ২৬ দিন পর চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা হয়। বিচার শুরুর পর থেকে ৫৩তম কার্যদিবসে রায় ঘোষণা। আইনের শাসন দিয়ে জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব, তা এই রায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত জঙ্গি হল- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, আসলাম হোসেন ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শহীদুল ইসলাম খালেদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দিয়েছেন আদালত। রায়ে হলি আর্টিজান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও সমন্বয়কারী হিসেবে তামিম চৌধুরীকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাংলাদেশে তথাকথিত জিহাদ কায়েমের নামে জননিরাপত্তা বিপন্ন ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস’র দৃষ্টি আকর্ষণের লক্ষ্যে নারকীয় হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। জেএমবি’র একাংশ নিয়ে গঠিত নব্য জেএমবির সদস্যরা গুলশান হলি আর্টিজানে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এ হামলার মধ্য দিয়ে জঙ্গিবাদের উন্মত্ততা, নিষ্ঠুরতা ও নৃশংসতার জঘন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। নিরপরাধ দেশি-বিদেশি মানুষ যখন রাতের খাবার খেতে যায়, তখনই হঠাৎ তাদের ওপর চালানো হয় জঙ্গি হামলা। জঙ্গিরা শিশুদের সামনে এ হত্যাকাণ্ড চলায়।

মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তারা নিথর দেহগুলো ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। মুহূর্তের মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় হলি আর্টিজান বেকারি। কলঙ্কজনক এ হামলার মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চরিত্র হরণের চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এটা প্রমাণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এর ফলে শান্তি ও সম্প্রীতির জন্য পরিচিত বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি কিছুটা ক্ষুণ্ণ হয়।

কাজেই সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে আসামিরা কোনো ধরনের অনুকম্পা বা সহানুভূতি পেতে পারে না। এক্ষেত্রে আসামিদের সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর ৬(২)(অ) ধারায় প্রদত্ত সর্বোচ্চ সাজাই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। হতভাগ্য মানুষগুলোর স্বজনরা কিছুটা হলেও শান্তি পাবেন। বিচারক বলেছেন, এই রায়ের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে।

মামলার ঘটনাপ্রবাহ, এজাহারের বর্ণনা, চার্জশিট (অভিযোগপত্র), সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও দু’পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক বিশ্লেষণ করে বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন। এদিন (বুধবার) দুপুর ১২টা ৬ মিনিটের দিকে রায় পড়া শুরু হয়। দুপুর ১২টা ১৮ মিনিটের দিকে রায় ঘোষণা শেষ করেন বিচারক। রায় ঘোষণার পর আদালতের ডকে (আসামি রাখার নির্ধারিত স্থান) থাকা আসামিরা ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে থাকে।

এ সময় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রাকিবুল হাসান রিগান পকেট থেকে আইএস’র লোগো সংবলিত টুপি পরে আদালতের ভেতরই স্লোগান দিতে থাকে। এছাড়া রায় ঘোষণার পর প্রিজনভ্যানে থাকা অপর আসামি জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধীর মাথায়ও আইএস’র টুপি দেখা যায়।

কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই আসামিরা কিভাবে আইএস’র টুপি পেল তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। এরই মধ্যে কারা অধিদফতর ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি মো. আবদুল্লাহ আবু সাংবাদিকদের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। রায়ের মাধ্যমে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। ভবিষ্যতে এ দেশে মৌলবাদী চিন্তাধারা থাকবে না। যে আসামি খালাস পেয়েছে তার ব্যাপারে পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর বিশ্লেষণ শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

জানতে চাইলে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই রায়ে আসামিরা সন্তুষ্ট হয়নি। তারা উচ্চ আদালতে আপিল করার কথা জানিয়েছে। শিগগিরই এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।

হামলায় জড়িত নিহত ১৩ জঙ্গি : গুলশান হামলায় জড়িতদের মধ্যে নিহত ১৩ জনের পাঁচজন নিহত হয় হলি আর্টিজান হামলায় অভিযানের সময়ই। তারা হচ্ছে- রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল। বাকি আটজন বিভিন্ন জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত হয়। তারা হচ্ছে- তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, তানভীর কাদেরী, মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ, রায়হান কবির তারেক, সারোয়ার জাহান মানিক, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান। বাকি ছিল আরও আট জঙ্গি। এদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে বুধবার আদালত মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। একজনকে খালাস দেয়া হয়।